অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসার সময় এসে গেছে। বাংলাদেশের ‘বিগ ফাইভ’

 

BCB Big Five

অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসার সময় এসে গেছে। বাংলাদেশের ‘বিগ ফাইভ’—সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মোর্তজা, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ—দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে: কেন তাদের পরবর্তী প্রজন্ম, প্রায় এক দশক ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পরও, এখনো সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি?

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দল পরিচালনার নীতির মধ্যে, বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে।

মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারের শুরুটা তার বর্তমান রেকর্ডের মতো ছিল না। তিনি ২৭৪টি ওয়ানডে ম্যাচে ৭৭৯৫ রান করে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু প্রথম দুই বছরে তার গড় ছিল মাত্র ২০-এর কিছু বেশি। ২৯ ইনিংসে ৪৭৬ রান করেছিলেন মাত্র ৫৬.০৬ স্ট্রাইক রেটে। ধৈর্য ও সুযোগ পেয়ে তিনি সময়ের সঙ্গে উন্নতি করেন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় বছরে তার পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে তিনি ৩৬ ইনিংসে ১২৭০ রান করেন ৩৫ গড়ে এবং ৯৪.৫ স্ট্রাইক রেটে।

এতে প্রশ্ন ওঠে: নতুন প্রজন্ম কি একই ধৈর্য ও সুযোগ পেয়েছে?

২০২৩ সালে অভিষেক হওয়া তৌহিদ হৃদয় তার প্রথম দুই বছরে ৩৫.১৪ গড়ে ৩১ ইনিংসে ৯৮৪ রান করেছেন—মুশফিকুরের শুরুর তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স। তবে তাকে দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে গড়ে তোলা হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সৌম্য সরকার, যার অভিষেক ২০১৪ সালে, ক্যারিয়ারের শুরুতে দুর্দান্ত খেললেও ১১ বছরে মাত্র ৭৬টি ওয়ানডে খেলেছেন, মূলত পারফরম্যান্সের ওঠানামার কারণে বাদ পড়েছেন। অথচ তার প্রথম দুই বছরে গড় ছিল ৪২.৫২ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০.৪—যা সে সময়ের ক্রিস গেইল ও কুইন্টন ডি ককের চেয়েও ভালো। তবুও, তাকে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়া হয়নি।

একইভাবে, তামিম ইকবালের ক্যারিয়ারের শুরুতেও ধারাবাহিকতা ছিল না। প্রথম ৫৩ ইনিংসে তিনি ২৫ গড়ে ১৩৭০ রান করেছিলেন। তবে মুশফিক, সাকিব এবং তামিম এমন একটি সময়ে খেলেছেন, যখন বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ‘মিনোস’ তকমা ঝেড়ে ফেলে বড় দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। সেসময় নির্বাচকরা তাদের গড়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছিলেন।

কিন্তু সৌম্য, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ এবং লিটন দাসের ক্ষেত্রে একই ধৈর্য দেখা যায়নি। সৌম্য নিজেও সম্প্রতি বলেছেন, ১১ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পরও তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা এখনো সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাননি।

ওয়ানডে ক্রিকেটের বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই সংকর দলটি—অভিজ্ঞ ও ‘সিনিয়র হতে চলা’ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ—এখনও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিতে পারেনি। বাংলাদেশ এখনো বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি, যার একটি বড় কারণ হলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত পথ তৈরি না করা।

দুই দিন আগে মিরাজ স্বীকার করেছেন যে তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা "৭-৮ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন" এবং এখন দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। তবে এ ধরনের বক্তব্য আগেও তাসকিন, লিটন, সৌম্য এবং মিরাজের কাছ থেকে এসেছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর এখনো ঘটেনি।

এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী বিসিবির অপরিকল্পিত দল পরিচালনা এবং সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়া।

এখন, বাংলাদেশের ক্রিকেট নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সিনিয়ররা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন। প্রশ্ন রয়ে গেছে: এবার কি তাসকিন, মিরাজ, সৌম্যরা সত্যিই দায়িত্ব নেবে?

#BangladeshCricket #RiseOfNewLeaders #ODITransition #BCB #CricketBangladesh #NextGenTigers

Comments

Popular posts from this blog

CCL Digital Set Top Box

Alita: Battle Angel (2019) 375MB 480P WEB-DL Dual Audio [Hindi-English]