“সবার কাছে তিনি ছিলেন সালমান শাহ, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন এমন — আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।”

“সবার কাছে তিনি ছিলেন সালমান শাহ, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন এমন — আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।”
একটি বাক্যেই যেন ফিরে আসে বাংলা চলচ্চিত্রের এক আবেগঘন অধ্যায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিনেত্রী স্মৃতির পাতা উল্টে কথা বলেছেন তার অভিনয়জীবন, নাটকের সোনালি সময় এবং প্রয়াত নায়ক-কে ঘিরে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে কিংবদন্তি টিভি নাটক-এ শুমা চরিত্র— নব্বই দশকের বাংলা নাটকের সোনালি সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ ছিলেন তামালিকা কর্মকার। আজও দর্শকের মনে সেই চরিত্রগুলো একইরকম জীবন্ত।

শৈশব থেকেই সংস্কৃতিমনা পরিবেশে বড় হয়েছেন তামালিকা। তার মা যুক্ত ছিলেন নাট্যদল-এর সঙ্গে। ফলে ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান ও অভিনয়ের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠা। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে প্রথম অভিনয়ে অংশ নেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন এবং পেয়েছেন একাধিক পুরস্কারও।

কৈশোরেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে। বিটিভির নাটক “হার মানা হার”-এ তার প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে। তবে তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক রচিত “কোথাও কেউ নেই” নাটকের মাধ্যমে।

শুমা চরিত্রে অভিনয় করে তামালিকা দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। নাটকটি সম্প্রচারের পর বেকার ভাই চরিত্রকে ঘিরে যে গণআবেগ তৈরি হয়েছিল, তা আজও বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হয়। তামালিকা জানান, নাটকে তার স্বাভাবিক কথাবলার ধরনই চরিত্রের অংশ হয়ে গিয়েছিল। হুমায়ূন আহমেদ তাকে বলেছিলেন, “বাস্তবে যেমন কথা বলো, ঠিক সেভাবেই সংলাপ বলবে।”

নাটকের কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে, যা তামালিকার কাছে এখনো গভীর স্মৃতিময়। তিনি বলেন, শুমা চরিত্রের জন্য যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে।

অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় কাজ করলেও নিজেকে কখনো ‘স্টার’ ভাবেননি তামালিকা। তার ভাষায়, “আমি নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবেই দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”

তবে সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল সালমান শাহকে নিয়ে স্মৃতিচারণ। সালমান শাহ খ্যাতি পাওয়ার আগ থেকেই তাদের বন্ধুত্ব ছিল। তখন তারা শাহজাহানপুর এলাকায় থাকতেন এবং সালমান শাহ, যাকে তামালিকা “এমন” নামে ডাকতেন, প্রায়ই তাদের বাসায় আসতেন।

তামালিকা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “শুটিং শেষে প্রতিদিন আমাকে বাসায় পৌঁছে দিত। মন খারাপ থাকলে আমাদের বাসায় চলে আসত। এত বছর পরও তাকে খুব মিস করি। তিনি সবসময় আমার হৃদয়ের খুব কাছেই থাকবেন।”

চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তামালিকা ও সালমান শাহ। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও তাদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।

অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না জানতে চাইলে তামালিকা শান্ত কণ্ঠে বলেন, তিনি সৌভাগ্যবান যে বাংলা নাটকের সোনালি সময়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে আলো, ক্যামেরা, শুটিং ফ্লোর— সবকিছুকেই এখনও ভীষণ মিস করেন।

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মঞ্চনাটকও ছিল তার শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৯২ সালে আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দিয়ে প্রায় তিন দশক মঞ্চে অভিনয় করেছেন তিনি। তার মতে, মঞ্চই তাকে শৃঙ্খলা ও অভিনয়ের গভীরতা শিখিয়েছে।

দীর্ঘ সময় আলোচনার বাইরে থাকলেও অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা আজও অটুট। তামালিকা কর্মকারের কথায়, “আজও আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে অভিনয়ই।”

#SalmanShah #TamalikaKarmaker #BangladeshiDrama #GoldenEra


 

Comments

Popular posts from this blog

CCL Digital Set Top Box

Alita: Battle Angel (2019) 375MB 480P WEB-DL Dual Audio [Hindi-English]