বিড়াল সঙ্গেই পর্দায়, হৃদয়ে—সাদিয়া আইমানের মিউ-মাখা অভিজ্ঞতা 🐾
বিড়াল সঙ্গেই পর্দায়, হৃদয়ে—সাদিয়া আইমানের মিউ-মাখা অভিজ্ঞতা 🐾
দেশীয় বিনোদন অঙ্গনে পশু-কেন্দ্রিক গল্প খুব একটা দেখা যায় না। সেই জায়গা ভেঙে চর্কির ওয়েব ফিল্ম ‘মিউ’ দর্শকের মন জয় করেছিল। গল্পের কেন্দ্রেই ছিল একটি বিড়াল—আলু, যে বাস্তব জীবনেও অভিনেত্রী সাদিয়া আইমানের পোষ্য। ছবিতে আরও অভিনয় করেছিলেন আফসানা মিমি ও আজিজুল হাকিম।
‘মিউ’ পরিচালনা করেন আতীক জামান। সাদিয়ার ভাষায়, আলুর সঙ্গে কাজ করা ছিল দারুণ স্বাভাবিক ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা। আগের পোষ্য মিও হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে আলুই হয়ে ওঠে তার সান্ত্বনা। তাই ক্যামেরার সামনে আলুকে নিয়ে অভিনয় করা তার কাছে কখনও আলাদা প্রস্তুতির বিষয় ছিল না। “সে স্বাভাবিকভাবেই খুব বন্ধুসুলভ। আদর ভালোবাসা পেলে সে নিজের মতো করেই সেরা শট দেয়,”—বলেছেন সাদিয়া।
এই ঈদে আবারও পর্দায় দেখা যাবে তাকে এক ফার-বন্ধুর সঙ্গে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গোতে মুক্তি পাচ্ছে ‘লাভ সিটার’, যেখানে আরেকটি বিড়াল গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। জিয়াউল হক পলাশের সঙ্গে জুটি বেঁধে সাদিয়া হাজির হচ্ছেন ভালোবাসা ও ত্যাগের গল্পে। চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় আছেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও মুশফিকা মাসুদ। এটি তাদের প্রথম যৌথ ফিকশন কাজ—যা প্রকল্পটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। ঈদের তৃতীয় দিন মুক্তি পাবে এটি।
ফার-সহঅভিনেতার সঙ্গে কাজ কতটা চ্যালেঞ্জিং? সাদিয়া হাসতে হাসতে বলেন, “আলু যাই করুক, তাকে দারুণ লাগে! আমার চিন্তা ছিল, দর্শক আমার অভিনয় খেয়াল করবে তো?” তবে শুটিং সেটে কখনও কখনও আলো-সেটআপের দীর্ঘ অপেক্ষায় আলু অস্থির হয়ে যেত। তবুও আতঙ্কিত হয়নি—শুধু একটু হাঁটাহাঁটি করে আবার ফিরে আসত। এমনকি গল্পে আলুর ছোটবেলার চরিত্রেও ছিল আরেকটি বিড়াল। কিছু পথবিড়ালও খাবারের টানে সেটে এসে হাজির হয়েছিল!
সেটের পরিবেশ নিয়ে সাদিয়ার ভাবনা স্পষ্ট। পশুদের জন্য যেমন পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ জরুরি, তেমনি শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্যও। তিনি বলেন, মেকআপ রুম ও ওয়াশরুম পরিষ্কার রাখা, অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা—এসব বিষয় সবার স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে।
তবে ‘মিউ’–এর শুটিংয়ে পুরো টিম ছিল বেশ সহানুভূতিশীল। আলুর খাবার, খেলনা থেকে শুরু করে সবকিছুর বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মজার বিষয়, সেটে সবাই তাকে আদর করে ডাকত “বস” বলে! গাড়ি থেকে কোলে করে আলুকে নামালে শোনা যেত—“বস এসে গেছে!” শট শেষে একটু বিশ্রাম নিলে আবার বলা হতো—“বস, আরেকটা শট দেবেন?”
সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা—শুটিং চলাকালীন কয়েকজন টিম মেম্বার পথবিড়ালদের দত্তক নেন। সাদিয়ার মতে, এ ধরনের ছোট ছোট মানবিক কাজই পৃথিবীকে সুন্দর করে তোলে।
এই ঈদে ‘লাভ সিটার’ ছাড়াও সাদিয়াকে দেখা যাবে কয়েকটি নাটকে—সাগর জাহানের ‘ছিটকিনি’, মাজুমদার শিমুলের ‘এক চিলতে ছোঁয়া’ এবং প্রবীর রায় চৌধুরীর ‘কলেজ ডেজ’-এ। এখন অপেক্ষা দর্শকের ভালোবাসার।
#SadiaAyman #LoveSitter #Meu #EidEntertainment
Comments
Post a Comment