‘রয়েদ’-এর সাফল্যের পর থামছেন না নাজিফা তুষি, আসছেন নতুন চমক ‘অ্যানি’ নিয়ে

‘প্রেশার কুকার’-এর প্রাণবন্ত রেশমা পাখি থেকে শুরু করে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রয়েদ’-এ সাদুর স্ত্রীর জটিল চরিত্র—প্রতিটি কাজেই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন নাজিফা তুষি। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে দেশের অন্যতম বহুমাত্রিক ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

‘রয়েদ’-এ তার অভিনয় যেমন দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি এখন দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার নতুন প্রজেক্ট ‘অ্যানি’। নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালনায় নির্মিত এই মিনিসিরিজের ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্ধকার, অস্বস্তিকর এবং রহস্যঘেরা আবহের সঙ্গে তুষির একেবারে ভিন্নধর্মী রূপ দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তুষি জানান, বাংলাদেশের কোনো মিনিসিরিজ এই প্রথম জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ Seriencamp Festival-এ ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছে। তবে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পুরো টিম সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এর পরিবর্তে তারা একটি বিশেষ ভিডিও সেশন রেকর্ড করেন, যা উৎসবের দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।

‘অ্যানি’ সম্পর্কে তুষির ভাষ্য, এটি একাধিক ঘরানার মিশেলে নির্মিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী কাজ। নারী-পুরুষ সম্পর্কের ভেতরে থাকা বৈষম্য, অবিশ্বাস, সামাজিক সহিংসতা এবং আরও অনেক স্তরবদ্ধ বিষয়কে কেন্দ্র করে এগিয়েছে গল্প। তিনি বলেন, “এ ধরনের কাজে আগে কখনও অভিনয় করিনি। একজন অভিনেত্রী হিসেবে যেমন শিখেছি, তেমনি একজন মানুষ হিসেবেও আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে।”

মজার বিষয় হলো, ‘হাওয়া’-এর পর এটিই ছিল তুষির প্রথম কাজ, যদিও নানা কারণে সেটি এখন মুক্তি পাচ্ছে। এমনকি ট্রেলার প্রকাশের আগে তিনি নিজেও পুরো কাজটি দেখেননি। কারণ নির্মাতা সাদ তার শিল্পীদের কোনো ফুটেজ আগে দেখাতে পছন্দ করেন না। তাই ট্রেলারই ছিল তুষির নিজের কাজ প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা।

তুষির মতে, “এই প্রথম আমি আমার কাজ নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট। ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া আমাকে সত্যিই অভিভূত করেছে। আমি মনে করি, দর্শকরা এর আগে ইয়াশ রোহান এবং সায়মন সাদিককে এমন নতুনভাবে দেখেননি।”

তিনি আরও জানান, ‘অ্যানি’-তে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নেই, যা সিরিজটির ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলীর অংশ। যদিও এটি একটি নির্দিষ্ট দর্শকশ্রেণির জন্য তৈরি, তবুও যারা সিরিজটি দেখবেন তারা এর গভীরতা অনুভব করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

দর্শকদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তুষি বলেন, “আমি চাই দর্শক আমাকে ভালোবাসুক। তবে অতিরিক্ত প্রশংসা আমাকে ভয়ও দেখায়, কারণ সবসময় শতভাগ দিতে পারব কি না, সেই চিন্তা কাজ করে।”

আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে টানা দশ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। অসংখ্য প্রস্তাব পেলেও তিনি অপেক্ষা করেছেন সঠিক গল্প ও সঠিক চরিত্রের জন্য।

অন্যদিকে ‘রয়েদ’-এর সাফল্য নিয়েও উচ্ছ্বসিত তুষি। তার মতে, এটি এমন একটি চলচ্চিত্র যা দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, “সবচেয়ে ভালো লেগেছে, মানুষ সিনেমা দেখে চরিত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করছে। অনেকেই আমাকে চিনতে পারেনি, বরং ছবির বার্তা ও প্রতীকী অর্থ নিয়ে কথা বলেছে। একজন শিল্পী হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?”

বর্তমানে ‘অন্ধার’সহ আরও কয়েকটি প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাজিফা তুষি। দর্শকদের কৌতূহল, ভালোবাসা এবং অপেক্ষাই তাকে নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে ও গড়তে অনুপ্রাণিত করছে। তার কাছে পুরস্কারের চেয়েও বড় অর্জন হলো দর্শকের আন্তরিক ভালোবাসা।

#NazifaTushi #AnnieSeries #BangladeshiCinema #OTTEntertainment


 

Comments

Popular posts from this blog

CCL Digital Set Top Box

Alita: Battle Angel (2019) 375MB 480P WEB-DL Dual Audio [Hindi-English]