মন্টোর ভাবনায় নির্মিত ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’, ঢাকায় শুটিং শেষ, যুক্তরাষ্ট্রে চলছে সম্পাদনার কাজ
দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তি সাহিত্যিক সাদাত হাসান মন্টোর সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’-এর চিত্রধারণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলচ্চিত্রটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে যুক্তরাষ্ট্রে।
নির্মাতা জুটি শাহ নেওয়াজ খান সিজু ও সুমাইয়া আরজু মুহু যৌথভাবে চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন। গত ২১ জুন ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং সম্পন্ন হয়। এতে অভিনয় করেছেন কোয়াজী নওশাবা আহমেদ, সুমন আনোয়ার, আনিয়াহ আবদিয়াহ তাসনিম, ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা এবং সিফাত বনিয়া।
নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ মন্টোর বিখ্যাত গল্প ‘ঠান্ডা গোশত’-এর সরাসরি রূপান্তর বা পুনর্নির্মাণ নয়। বরং তাঁর লেখায় বারবার উঠে আসা সহিংসতা, নৈতিক সংকট, অপরাধবোধ এবং মানবমনের অন্ধকার দিকগুলোকে সমকালীন বাস্তবতায় নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির গল্পে ব্যক্তিগত অপরাধ, অপরাধবোধ এবং একটি পরিবারের ওপর তার বিধ্বংসী প্রভাবকে কেন্দ্র করে ঘটনাপ্রবাহ এগিয়েছে।
শাহ নেওয়াজ খান সিজু বলেন, মন্টো প্রায় আট দশক আগে সমাজের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু সময়ের পরিবর্তন সত্ত্বেও সেই অন্ধকারের অনেক কিছু আজও রয়ে গেছে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং এই চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্যতম অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ছয় বছর ধরে গল্পটি তাঁর মনে ছিল। মন্টোর মতোই বর্তমান সমাজের অস্বস্তিকর সত্যগুলোকে কোনো আপস ছাড়াই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তারা।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করা কোয়াজী নওশাবা আহমেদ জানান, এটি তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। চরিত্রটির ভেতরের ক্ষোভ, অসহায়ত্ব এবং মানসিক যন্ত্রণাকে ধারণ করতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আবেগগতভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন রাইহান উদ্দিন এবং ক্রিয়েটিভ প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেছেন শাহ তুষার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পাদক রাশাদুজ্জামান সোহাগের তত্ত্বাবধানে সম্পাদনার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, সিজুর আগের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নট এ ফিকশন’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া সিজু ও মুহুর প্রামাণ্যচিত্র ‘ক্লাইমেট রিফিউজি অব বাংলাদেশ’ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সেরা চিত্রগ্রহণের পুরস্কার লাভ করে।
সহ-পরিচালক সুমাইয়া আরজু মুহু বলেন, নারী হিসেবে চরিত্রগুলোর মানসিক বাস্তবতা এবং নীরব যন্ত্রণাকে বোঝা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে বিষয়গুলোকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে দর্শক সমাজের কঠিন বাস্তবতাগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ হন।
পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষ হলে ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে প্রদর্শিত হবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও এটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
#ThandaGosht20 #BangladeshiCinema #ShortFilm #FilmFestivalRun

Comments
Post a Comment