বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রবীণ অভিনেত্রী রোজিনা বিস্ফোরক মন্তব্য
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রবীণ অভিনেত্রী রোজিনা বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাকে শুধু একটি “ট্রাম্প কার্ড” হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
শিবা শানু ও জয় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রোজিনা। তবে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর রোববার রাতে উত্তরার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, শুরু থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো আগ্রহ তার ছিল না।
রোজিনার ভাষ্য, জয় চৌধুরী আবেগের জায়গা থেকে তাকে রাজি করান। তাকে বলা হয়েছিল, তার উপস্থিতি প্যানেলের প্রতি জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের সমর্থনের প্রতীক হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করছেন, সেই বিশ্বাসের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, “আমাকে সামনে রাখা হয়েছিল শুধু একটি প্রতীক হিসেবে। নির্বাচনে দাঁড়াতে আমি রাজি ছিলাম না। পরে বুঝেছি, আমার সম্মান রক্ষার বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দেয়নি।”
নির্বাচনী প্রচারণাতেও নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেছেন বলে দাবি করেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, প্রচারণার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে তাকে নিয়মিত সম্পৃক্ত রাখা হয়নি এবং পরিকল্পিতভাবেই তাকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফল হিসেবে তাকে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোজিনা। তার দাবি, ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি ছিল। যদিও তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) নিয়েও গভীর হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। রোজিনার মতে, একসময় যে প্রতিষ্ঠান শিল্পীদের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক ছিল, সেখানে এখন সেই সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “বিএফডিসি আর আগের মতো নেই। সিনিয়র শিল্পীদের প্রতি সম্মান ও মূল্যবোধ ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”
এমনকি ভবিষ্যতে বিএফডিসিতে না ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রোজিনা জানান, মৃত্যুর পর তার মরদেহ যেন সেখানে না নেওয়া হয়—এমন ইচ্ছার কথাও তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রেখেছেন। তার মতে, এটি কোনো একদিনের ক্ষোভ নয়; বরং দীর্ঘদিনের হতাশা ও অভিজ্ঞতার ফল।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাক-এর কথাও স্মরণ করেন। রোজিনার দাবি, নায়করাজও জীবদ্দশায় একই ধরনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
তবে শিল্পী সমিতির প্রতি অনীহা থাকলেও সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা প্রযোজক সমিতির কোনো আয়োজনে প্রয়োজন হলে তিনি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু সাধারণভাবে বিএফডিসিতে যাওয়ার আর কোনো আগ্রহ তার নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।
#BangladeshCinema #Rozina #FilmIndustry #EntertainmentNews
.jpeg)
Comments
Post a Comment