‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ দেখে শক্তি খুঁজে পাচ্ছেন নারীরা: জয়া আহসান
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ দেখে শক্তি খুঁজে পাচ্ছেন নারীরা: জয়া আহসান
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে দারুণ সাড়া ফেলেছে জয়া আহসান অভিনীত নতুন বাংলা চলচ্চিত্র ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত ছবিটি মুক্তির পর থেকেই একের পর এক শো হাউসফুল যাচ্ছে, আর দর্শকের উচ্ছ্বাস দিন দিন আরও বাড়ছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যেও ছবিটি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে।
বর্তমানে ছবির প্রচারণায় কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জয়া আহসান। প্রিমিয়ার, বিশেষ প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন সিনেমা হলে গিয়ে তিনি সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে দেখা করছেন। দর্শকদের ভালোবাসায় আপ্লুত এই অভিনেত্রী জানান, ছবিটি নিয়ে যে পরিমাণ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন, তা তাঁর প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নন্দন প্রেক্ষাগৃহের একটি প্রদর্শনী। প্রায় এক হাজার আসনের এই হলে দর্শকে পরিপূর্ণ শো শেষে অনেকেই ছবিটির তৃতীয় কিস্তি নির্মাণের দাবি জানান। জয়ার ভাষায়, দর্শকদের এমন আবেগময় প্রতিক্রিয়া তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি আনন্দের বিষয় হলো বিভিন্ন বয়সের নারীরা ছবিটি নিজেদের গল্প হিসেবে গ্রহণ করছেন। তরুণী, শিক্ষার্থী, গৃহিণী থেকে শুরু করে প্রবীণ নারী—সবাই ছবির চরিত্র ও আবেগের সঙ্গে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন। অনেকেই প্রদর্শনী শেষে তাঁর কাছে এসে হাত ধরেছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, কেউ কেউ আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। এসব মুহূর্ত জয়ার কাছেও সমান আবেগঘন।
তবে ছবির সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের কাঁধে নিতে নারাজ জয়া। তাঁর মতে, এই অর্জনের মূল নায়ক পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী। সংবেদনশীল গল্প, নিখুঁত নির্মাণ এবং চরিত্রগুলোর গভীর উপস্থাপনই ছবিটিকে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে।
জয়া আরও বলেন, বাংলা সিনেমায় দীর্ঘদিন ধরে পুরুষকেন্দ্রিক গল্পই বেশি দেখা গেছে। কিন্তু ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ব্যতিক্রম। এখানে গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই নারী, আর তারাই এই ছবির প্রকৃত নায়ক। সহশিল্পী চূর্ণী গাঙ্গুলীর অভিনয়েরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। জয়ার মতে, চূর্ণী যেমন অসাধারণ অভিনেত্রী, তেমনি একজন আন্তরিক মানুষ। এই ছবির মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে সুন্দর বন্ধুত্বও গড়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি পান তখনই, যখন নারীরা এসে জানান—এই ছবি তাঁদের সাহস জুগিয়েছে, নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। জয়ার বিশ্বাস, একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেও মানুষ সিনেমা হলে এসে ছবিটি দেখছেন, যা প্রমাণ করে গল্পটি দর্শকের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে পৌঁছেছে।
গত এক বছরে বাংলা সিনেমায় এমন উচ্ছ্বাস খুব কমই দেখা গেছে বলেও মনে করেন জয়া। তাই ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’-এর এই সাফল্য তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তিনি এখনও কলকাতার নন্দনসহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সঙ্গে দেখা করছেন। পাশাপাশি বিনোদিনী থিয়েটারেও দর্শকদের উষ্ণ অভ্যর্থনার কথা স্মরণ করেন তিনি। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও ছবিটি সমানভাবে দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছে।
তবে এই আনন্দের মাঝেও জয়ার একটাই আক্ষেপ রয়ে গেছে। তাঁর ইচ্ছা, বাংলাদেশের দর্শকরাও যেন দ্রুত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পান।
#JayaAhsan #AajoArdhangini #BengaliCinema #WomenEmpowerment

Comments
Post a Comment