টিভি নাটকের সংকট, কমছে শিল্পীদের কাজের সুযোগ: উদ্বিগ্ন অভিনয়শিল্পীরা
- Get link
- X
- Other Apps
টিভি নাটকের সংকট, কমছে শিল্পীদের কাজের সুযোগ: উদ্বিগ্ন অভিনয়শিল্পীরা
বাংলাদেশের টেলিভিশন ও বিনোদন অঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের অভিনয়শিল্পীরা। তাদের অভিযোগ, দেশীয় নাটক নির্মাণের হার কমে যাওয়া, বিদেশি ধারাবাহিক বাংলায় ডাবিং করে প্রচারের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তার অভাবে অভিনয়শিল্পীসহ সৃজনশীল খাতের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত অ্যাক্টরস ইকুইটি বাংলাদেশের বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, কম খরচে বিদেশি সিরিয়াল কিনে বাংলায় ডাবিং করে সম্প্রচার করায় দেশীয় নাটক নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে অভিনেতা, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের কাজের পরিধি ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
তিনি জানান, একসময় প্রাইম টাইমে ডাবিং করা বিদেশি ধারাবাহিক প্রচারে নীতিগত সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে স্থানীয় শিল্পী ও প্রযোজকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সেলিম বলেন, অনেক শিল্পী ও নির্মাতা বর্তমানে আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করছেন। সংস্কৃতি খাতকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদও শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়লেও নাটক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গুরুত্ব কমে গেছে। অধিকাংশ চ্যানেল এখন সংবাদ ও বাণিজ্যিক কনটেন্টকেন্দ্রিক হওয়ায় অভিনয়শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র আগের তুলনায় অনেক সংকুচিত হয়েছে।
তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
অ্যাক্টরস ইকুইটি বাংলাদেশের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম বলেন, অভিনয়শিল্পীরা এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ পেশাগত স্বীকৃতি পাননি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। শুধু অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করা এখন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বহু শিল্পী আর্থিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের প্রতি আহ্বান জানান, সহকর্মীদের কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেও পাশে দাঁড়ানোর।
আলোচনায় প্রবীণ অভিনয়শিল্পী মামুনুর রশীদ, দিলারা জামান, ফেরদৌসী মজুমদারসহ আরও অনেকেই অংশ নেন। বক্তারা একমত হন যে, বাংলাদেশের অভিনয় ও সংস্কৃতি অঙ্গনকে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক নীতি, রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই।
#BangladeshTV #ActorsEquity #SupportLocalContent #EntertainmentIndustry

Comments
Post a Comment