বিশ্বমঞ্চে থামার মানুষ নন সানজয়, এবার লক্ষ্য বাংলা সংগীতকে বিশ্বজয়ের পথে নেওয়া


ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে নিজের মৌলিক গান “SIIR SIIR” পরিবেশন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সংগীতশিল্পী ও ডিজে সানজয়। কানাডায় অনুষ্ঠিত সেই জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর পরনের মেরুন জ্যাকেটের হাতায় ফুটে উঠেছিল বাংলাদেশের গর্ব রয়েল বেঙ্গল টাইগারশাপলা—যা বিশ্বমঞ্চে দেশের পরিচয় তুলে ধরার এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপের সমাপনী উপলক্ষে ঢাকায় বিশেষ পরিবেশনা শেষ করেই আবার কাজে ডুবে গেছেন এই শিল্পী। কিউনেটিক নেটওয়ার্কের স্টুডিওতে নতুন সংগীতের প্রস্তুতির মাঝেই তিনি স্মৃতিচারণ করেন সাম্প্রতিক ব্যস্ত সময়ের।

সানজয়ের ভাষায়, বিশ্বকাপের সেই অভিজ্ঞতা যেন এখনও স্বপ্নের মতো। তিনি বলেন, পুরো ঘটনাই এত দ্রুত ঘটেছে যে অনেক মুহূর্ত এখনো ঝাপসা মনে হয়। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাঁকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করেছিলেন—এ প্রশ্নে কৌশলী ছিলেন সানজয়। নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না বললেও তাঁর বড় স্বপ্ন বাংলাদেশের ফুটবলকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে যদি বিশ্বকাপে ৬৪টি দল অংশ নেয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্যও সেই সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংগীতের প্রতি সানজয়ের ভালোবাসা শুরু শৈশব থেকেই। সংগীতনির্ভর পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী মাত্র চার বছর বয়সেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও তবলা শেখা শুরু করেন। ছোটবেলার সেই তাল-লয়ের শিক্ষাই পরবর্তীতে ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (EDM)-এ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

পরিবারসহ ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমানোর পর কৈশোরেই ডিজিটাল অডিও ও সংগীত প্রযোজনার জগতে প্রবেশ করেন তিনি। মাত্র ১১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাওয়া বাংলাদেশি শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চে বাজানোর সুযোগ পান। বিশেষ করে সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক ফুয়াদ আল মুক্তাদিরকে তিনি নিজের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা শিল্পীর সঙ্গে কাজ করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন সানজয়। একসময় তাঁর সংগীত যুক্তরাষ্ট্রের টপ ৪০ চার্টেও জায়গা করে নেয়—যা বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য এক বিরল অর্জন। তাঁর বিশ্বাস, নিজের পরিচয় ও স্বকীয়তাকে ধরে রেখে কাজ করলেই সাফল্য আসে।

ডিজে পরিচয় নিয়েও তিনি গর্বিত। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে ডিজেরা শুধু গান বাজান না, বরং পূর্ণাঙ্গ সংগীতশিল্পী হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। মার্টিন গ্যারিক্স কিংবা মার্শমেলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তিনিও একজন মাল্টি-ইনস্ট্রুমেন্টালিস্ট এবং ডিজে—এই পরিচয়ই তাঁর শক্তি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংগীতশিল্পীদের জন্য হুমকি কিনা—এ প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী সানজয়ের জবাব, তিনি নিজেও কাজের গতি বাড়াতে AI ব্যবহার করেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, একজন শিল্পীর সৃজনশীলতা, অনুভূতি ও ব্যক্তিত্ব কখনোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সানজয়ের ভাবনা আরও বড়। আফ্রোবিটস যেভাবে বিশ্বসংগীতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, ঠিক তেমনি বাংলা সংগীতকেও আন্তর্জাতিক মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের শিল্পীদের আরও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের সংগীত পৌঁছে দেওয়ার সাহস দেখাতে হবে।

নিজের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সম্পর্কে সানজয়ের ঘোষণা স্পষ্ট—তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার হতে চান। তাঁর আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং স্বপ্নের ব্যাপ্তি দেখে মনে হয়, সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি থেমে থাকার মানুষ নন।

#Sanjoy #BangladeshiMusic #FIFAWorldCup #EDM

 

Comments

Popular posts from this blog

CCL Digital Set Top Box

Alita: Battle Angel (2019) 375MB 480P WEB-DL Dual Audio [Hindi-English]