সহকারী পরিচালক থেকে ভেনিসের নায়িকা: যেভাবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর জেইনীন হয়ে উঠলেন জেইনীন
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছেন এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা জেইনীন চৌধুরী করিম।
মজার বিষয় হলো, শুরুতে তিনি এই ছবির নায়িকা হিসেবে নয়, বরং সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ কলেজের এক অধ্যাপকের মাধ্যমে রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে পরিচয়ের পর সিনেমাটির চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে চরিত্রটির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্ক্রিপ্টের বিভিন্ন খসড়া পড়ে মতামত দিতেন, চরিত্র নির্মাণেও অংশ নিতেন।
একদিন হঠাৎই রুবাইয়াত তাকে অডিশনের প্রস্তাব দেন। অভিনয়কে কখনোই পেশা হিসেবে ভাবেননি জেইনীন। তবে হারানোর কিছু নেই ভেবেই অডিশন দেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক প্রোডাকশন মিটিংয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে আর সহকারী পরিচালক হিসেবে রাখা হচ্ছে না। পরদিনই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত খবর—তিনি হচ্ছেন ছবির প্রধান চরিত্র।
জেইনীনের মতে, প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণার সঙ্গে নিজেকে কখনোই মানিয়ে নিতে পারেননি। উচ্চতা, গায়ের রং বা শারীরিক গঠন—কোনোটিই তথাকথিত ‘নায়িকা’র ছকে পড়ে না। কিন্তু সেই বাস্তবতাই তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে, কারণ ছবির চরিত্রটিও সমাজের চাপিয়ে দেওয়া সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে লড়াই করে।
ছবিতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। শুটিংয়ের আগে বাঁধনের একটি পরামর্শ আজও মনে রেখেছেন জেইনীন—“তুমি দেখতে কেমন, সেটা নিয়ে ভাববে না। তুমি চরিত্রটাকে সত্যি করে ফুটিয়ে তোলো।”
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া এক তরুণীর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের ভেতর সৌন্দর্য, সামাজিক প্রত্যাশা, ভয়, স্মৃতি এবং এক রহস্যময় কনের আত্মার উপস্থিতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী এক মনস্তাত্ত্বিক জগৎ।
চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য জেইনীন নিজেও একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রাইডাল মেকওভার অভিজ্ঞতা নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, বিয়ের আগে নারীদের ওপর ওজন কমানো, ফর্সা হওয়া এবং নিখুঁত দেখানোর যে অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়, সেই বাস্তবতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে এই চলচ্চিত্র।
প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে উচ্ছ্বসিত জেইনীন। তার বিশ্বাস, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের এক নতুন, আধুনিক এবং বহুমাত্রিক গল্প তুলে ধরবে—যেখানে আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সামাজিক বাস্তবতাও সমানভাবে উঠে আসবে।
#TheDifficultBride #VeniceFilmFestival #BangladeshiCinema #RubaiyatHossain

Comments
Post a Comment