কণ্ঠের আগেই সুরে গড়া হয়েছিল কিংবদন্তি আয়ুব বাচ্চুর
বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে আয়ুব বাচ্চু শুধু একজন গায়ক বা গিটারিস্ট নন—তিনি ছিলেন এক সম্পূর্ণ সংগীতযুগের নির্মাতা। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি বেঁচে থাকলে আজ ৬৪ বছরে পা দিতেন।
নিজের কণ্ঠে গান গেয়ে ঘরে ঘরে পরিচিত হওয়ার বহু আগেই আয়ুব বাচ্চু একজন অসাধারণ সুরকার হিসেবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গির স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে তাঁর সুর করা বেশ কিছু কম পরিচিত অথচ অসাধারণ গানের কথা।
তাপস চৌধুরীর ১৯৮৫ সালের প্রথম অ্যালবামে আয়ুব বাচ্চুর সুর করা ছিল—‘আমার গল্প শুনে’, ‘মনে করো তুমি আমি’, ‘হারানো দিনকে আমি ফিরে যদি পাই’ ও ‘আলো ভেবে যারে আমি’। ১৯৮৯ সালে নাসিম আলী খানের প্রথম অ্যালবামেও ছিল তাঁর সুর করা একাধিক গান—‘যতীন স্যারের ক্লাসে’, ‘পথে যেতে যেতে’, ‘ভাবনা’, ‘ওহে নদী’ ও ‘অগোছালো আমি’।
এ ছাড়াও ‘হারানো বিকেলের গল্প’, ‘কলেজের করিডোরে’, ‘সাঁওতালি মেয়েরা’, ‘পাথর কালো রাত’, ‘ময়না’সহ বহু গান নিজের কণ্ঠে তারকা হয়ে ওঠার আগেই তিনি সুর করেছিলেন।
পরবর্তীতে ‘সেই তুমি’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি এই মনটা আমার’, ‘একদিন ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘এই রূপালি গিটার ফেলে’সহ অসংখ্য গান তাঁর কণ্ঠে হয়ে ওঠে প্রজন্মের আবেগ।
১৯৭৮ সালে ফিলিংসের মাধ্যমে পথচলা শুরু করে ১৯৮০ সালে সোলস-এ যোগ দেন আয়ুব বাচ্চু। প্রায় এক দশক সোলসের সঙ্গে থাকার পর ১৯৯১ সালে গড়ে তোলেন LRB, যে ব্যান্ড পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে ওঠে।
১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্ত গোলাপ’। এরপর একক অ্যালবাম ও LRB-এর অসংখ্য গান মিলিয়ে তিনি রেখে গেছেন বাংলাদেশের সংগীতভান্ডারের এক অমূল্য অধ্যায়।
২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মাত্র ৫৬ বছর বয়সে চলে যান এই ‘ছয় তারের জাদুকর’। তবে তাঁর সুর, কণ্ঠ আর গিটারের ঝংকার আজও বেঁচে আছে অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে।
২০২৬ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হওয়া এই কিংবদন্তির প্রতি জন্মদিনে রইল গভীর শ্রদ্ধা। 🎸❤️
#AyubBachchu #BangladeshiRock #LRB #BanglaMusic

Comments
Post a Comment