‘সময় কম হলেও চরিত্রে ছাপ রাখতে চাই’—আয়েশা খান
ওটিটির জনপ্রিয় মুখ হিসেবে ইতোমধ্যে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা আয়েশা খান। ‘Kaiser’ ও ‘Daag’-এর মতো কাজে প্রশংসিত অভিনয়ের পর এবার বড় পর্দায় নতুনভাবে দর্শকের সামনে এসেছেন তিনি। প্রযূন রহমানের ‘শেকড়’ সিনেমায় এফ এস নাঈমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন আয়েশা। ৩১ জুলাই মুক্তির পর সিনেমাটি দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে।
‘শেকড়’-এ আয়েশাকে দেখা গেছে ফাল্গুনী চরিত্রে—যিনি একজন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক। চরিত্রটির মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতি, সংগীতের ঐতিহ্য এবং শেকড়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে আয়েশা জানান, পরিচালক প্রযূন রহমান নতুন মুখ খুঁজছিলেন। এফ এস নাঈম তার নাম প্রস্তাব করার পর পরিচালকের সঙ্গে তার দেখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে গল্পের বর্ণনা। চিত্রনাট্য পুরোপুরি পড়ার আগেই তিনি কাজটি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।
পরিচালকের প্রস্তুতিও মুগ্ধ করেছে আয়েশাকে। শুটিং শুরুর প্রায় তিন মাস আগেই প্রযূন রহমান প্রযোজনা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের উৎসবযাত্রা পর্যন্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন। আয়েশার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার প্রায় সবকিছুই পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়েছে।
ফাল্গুনী চরিত্রের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান আয়েশা?
তার মতে, ফাল্গুনীর সঙ্গে তার সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো গান। ফাল্গুনী একজন দক্ষ শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী হলেও আয়েশা নিজে গান করেন না। তবে নিজের শেকড় ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার জায়গায় দুজনের মিল রয়েছে। দেশের বাইরে থাকা মানুষদেরও নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এখন বেশ সচেতন আয়েশা। তার মতে, সব স্ক্রিপ্ট তাকে আকৃষ্ট করে না, আবার অনেক সময় পারিশ্রমিকের বিষয়টিও প্রযোজকদের জন্য বড় হয়ে দাঁড়ায়। তবে ‘Kaiser’, ‘Daag’ ও ‘Shekor’-এর মতো কাজগুলো তার ক্যারিয়ারে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
আয়েশা এখন এমন চরিত্রেই কাজ করতে চান, যেখানে পর্দায় সময় কম হলেও দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি হবে। তার কাছে চরিত্রের ব্যাপ্তির চেয়ে সেটির প্রভাব ও স্মরণীয় হয়ে ওঠাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
‘শেকড়’-এর উৎসবযাত্রা নিয়েও আশাবাদী আয়েশা। তার মতে, কোনো সিনেমা দেশে বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পেতে পারে। তবে বাংলাদেশের গল্প বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি তুলে ধরতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে অভিনয়ের বাইরে ভ্রমণও আয়েশার অন্যতম পছন্দ। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে একা ভ্রমণে গিয়ে পেয়েছেন আনন্দের পাশাপাশি বেশ কঠিন অভিজ্ঞতাও। বিমানবন্দরে পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে দেশে ফেরার ফ্লাইট মিস করেন তিনি। একপর্যায়ে কার্ড কাজ না করায় একা অবস্থায় বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
পরে এক পরিচিত ব্যক্তি, ট্রাভেল এজেন্সি এবং অপরিচিত এক বাংলাদেশি দম্পতি তাকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। তাদের সহায়তায় দেশে ফিরতে সক্ষম হন আয়েশা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তার উপলব্ধি—একাই ভ্রমণ করলে নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে জানা যায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একা ভ্রমণের সময় কার্ডের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার শিক্ষাও পেয়েছেন তিনি।
অভিনয়, ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিজীবন—সব ক্ষেত্রেই আয়েশার পথচলায় যেন একটি বিষয়ই স্পষ্ট: নিজের মতো করে এগিয়ে চলা এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে নতুন কিছু শেখা।
#AishaKhan #Shekor #BangladeshiCinema #OTTStar

Comments
Post a Comment