ব্যান্ড সংগীতের বাইরেও অমর আয়ুব বাচ্চু, স্মৃতিতে তাঁর পাঁচ কালজয়ী চলচ্চিত্রের গান
বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে আয়ুব বাচ্চু এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। গিটারের জাদুকরি সুর, দরাজ কণ্ঠ আর আবেগমাখা গায়কিতে তিনি জয় করেছিলেন অসংখ্য সংগীতপ্রেমীর হৃদয়। তবে ব্যান্ড সংগীতে অসামান্য অবদানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
১৮ অক্টোবর কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান তিনি। কিন্তু তাঁর সৃষ্ট গান আজও শ্রোতাদের মনে বেঁচে আছে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভালোবাসা ও আবেগের সুর।
আয়ুব বাচ্চু বলতেই অধিকাংশ শ্রোতার মনে ভেসে ওঠে এলআরবি, রক সংগীত আর গিটারের অনবদ্য সলো। অথচ চলচ্চিত্রের গানেও তাঁর কণ্ঠ পেয়েছে আলাদা জনপ্রিয়তা। ‘লুটতরাজ’, ‘আম্মাজান’, ‘লাল বাদশা’, ‘তেজী’, ‘সাগরিকা’, ‘মিস ডায়ানা’, ‘মগের মুল্লুক’, ‘চোরাবালি’, ‘কালো চশমা’, ‘ব্যাচেলর’, ‘বিলাত ফেরত মেয়ে’, ‘জবর দখল’, ‘আশা আমার আশা’ ও ‘স্পর্ধা’র মতো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি।
তাঁর চলচ্চিত্রের গানগুলোর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও, কিছু গান আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। প্রয়াণবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক বড় পর্দায় তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা পাঁচটি স্মরণীয় গান।
🎵 ১. ‘আম্মাজান ও আম্মাজান’
কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্রের এই গান আয়ুব বাচ্চুর প্লেব্যাক ক্যারিয়ারের অন্যতম পরিচিত সৃষ্টি। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে গানটি পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছিলেন মান্না ও শবনম। আবেগঘন পরিবেশনা ও হৃদয়ছোঁয়া সুরের কারণে গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
🎵 ২. ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’
‘লুটতরাজ’ চলচ্চিত্রের এই রোমান্টিক দ্বৈতগানে আয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী কনকচাঁপা। গানটির কথা ও সুর করেছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। প্রেমের আবেগ আর মধুর সুরের মেলবন্ধনে গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতভান্ডারে জায়গা করে নেয়।
🎵 ৩. ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি’
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের এই গানটি আয়ুব বাচ্চুর সংগীতপ্রতিভার আরেকটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে। মারজুক রাসেলের লেখা গানটিতে সুর করেছিলেন বাচ্চু নিজেই। তাঁর কণ্ঠ ও নিজস্ব সুরের সমন্বয় গানটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র আবেদন।
🎵 ৪. ‘স্বামী আর স্ত্রী’
‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গান ‘স্বামী আর স্ত্রী’। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা ও সুরে গানটি পর্দায় উপস্থাপিত হয়েছিল মান্না ও মৌসুমীকে নিয়ে। চলচ্চিত্রের গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশনা গানটিকে দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে।
🎵 ৫. ‘ভুলে গেছি জুতোর ফিতাও বাঁধতে’
রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ চলচ্চিত্রের এই গানটি আয়ুব বাচ্চুর প্লেব্যাক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। সাজ্জাদ হোসেনের কথায় গানটির সুর করেছিলেন বাচ্চু নিজেই। তাঁর সংগীত ভাবনার স্বতন্ত্রতা এই গানেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারে জন্ম নেওয়া আয়ুব বাচ্চু শুধু একজন গায়ক ছিলেন না; তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, গিটারবাদক এবং সংগীতের এক অনন্য কারিগর। ব্যান্ড সংগীতে তাঁর অবদান যেমন চিরস্মরণীয়, তেমনি চলচ্চিত্রের গানেও রেখে গেছেন নিজস্ব ছাপ।
সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু কিছু কণ্ঠ কখনো পুরোনো হয় না। আয়ুব বাচ্চুর গানও তেমনই—কখনো রকের তীব্রতায়, কখনো প্রেমের মাধুর্যে, আবার কখনো আবেগের গভীরতায় আজও অনুরণিত হয় সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।
কিংবদন্তি আয়ুব বাচ্চুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর গান বেঁচে থাকুক অনন্তকাল। ❤️🎸
#AyubBachchu #BanglaMusic #PlaybackSinging #MusicLegends

Comments
Post a Comment