আচার ছাড়িয়ে দুর্গাপূজা: সম্প্রীতি আর শৈশবের স্মৃতিতে তারকাদের উৎসব


শরতের আকাশে কাশফুলের দোলা, বাতাসে ঢাকের বাদ্যি। শারদীয় দুর্গাপূজা এসেছে ভক্তি, মিলন আর আনন্দের বার্তা নিয়ে। কারও কাছে এই উৎসব মানে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বেড়ানো, কারও কাছে আবার শিকড়ের টানে প্রিয়জনদের কাছে ফেরা। অনিমা রায়, তমালিকা কর্মকার, বিদ্যা সিনহা মিম ও চঞ্চল চৌধুরী জানিয়েছেন, পূজা তাঁদের কাছে ঠিক কী। কারও গল্পে শৈশবের মধুর স্মৃতি, কারও গল্পে সবাই মিলে একসঙ্গে থাকার সহজ আনন্দ।

অনিমা রায়

ছোট ছোট রীতি আর অভ্যাসের মধ্যেই পূজার আসল আনন্দ খুঁজে পান অনিমা রায়। প্রসাদের লাইনে দাঁড়ানো থেকে সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়া, মানুষকে কাছে আনে এমন সবকিছুর অপেক্ষাতেই থাকেন তিনি।

"অষ্টমীর দিন রামকৃষ্ণ মিশনে যাব, লাইনে দাঁড়িয়ে প্রসাদ নেব। প্রসাদের জন্য সারিতে অপেক্ষা করার মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ আছে," বলেন তিনি।

দশমীতে মাকে নিয়ে যাবেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। সেখানেও প্রসাদ পাওয়ার আশা আছে, আর সিঁদুর খেলায় তো থাকবেনই।

এবার মায়ের জন্য রেখেছেন বিশেষ উপহার। একটি শাড়ি কিনে রেখেছেন, কেরানীগঞ্জে গিয়ে নিজের হাতে মাকে দেবেন। এ ছাড়া গুলশান ও নারায়ণগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোতেও ঘুরতে চান, যেখানে উৎসবের জমজমাট আমেজ থাকে বেশি।

তবে এই শিল্পীর কাছে পূজা শুধু আচার বা ব্যক্তিগত পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কাছে এটি আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ, যেখানে সবাই শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশে উৎসব করতে পারবে।

"পূজা এলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। এই আনন্দ সবার, সবার জন্য। আমি চাই সুন্দর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হোক, আমরা সবাই মিলেমিশে উৎসবের দিনগুলো উপভোগ করি," বলেন অনিমা।

তমালিকা কর্মকার

দেশের বাইরে থাকেন তমালিকা কর্মকার। পূজা এলেই তাই মনটা পিছিয়ে যায় ফেলে আসা দিনগুলোতে, দেশের বাড়িতে কাটানো উৎসবের স্মৃতিতে।

"কিশোরী বয়সে পূজা মানেই ছিল নতুন জামা। বড় হওয়ার পরও সেই রীতি চলেছে, বাবা-মা নতুন পোশাক উপহার দিতেন। ওই আনন্দ জীবনে আর কখনো ফিরে পাব না," বলেন তিনি।

তাঁর সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি হলো কয়েকটা দিন প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো, যখন কাছের-দূরের আত্মীয় ও বন্ধুরা সবাই একসঙ্গে হতেন।

"দেশে পূজা করার সবচেয়ে ভালো লাগার দিকটা ছিল একসঙ্গে আনন্দ করা। কয়েকটা দিনের জন্য সবাই একজায়গায় জড়ো হতো, একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাত। সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাকে আনন্দ দেয়," বলেন তমালিকা।

এখন দূরে থাকলেও পূজা ঘনিয়ে এলে মনে এক ধরনের প্রশান্তি আসে তাঁর। অতীতের উৎসবের স্মৃতিগুলো হৃদয়ের কাছেই রয়ে গেছে, মনে করিয়ে দেয় সেই বন্ধনগুলোর কথা, যা পূজাকে এত অর্থবহ করে তোলে।

বিদ্যা সিনহা মিম

বিদ্যা সিনহা মিমের কাছে দুর্গাপূজা এমন এক উৎসব, যা সবাই মিলে উপভোগ করাতেই আসল মজা। উৎসবের এই উচ্ছ্বাস যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, আর প্রতিটি দিন কাটে আন্তরিক পরিবেশে, এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

"পূজা এলেই একটা আলাদা উত্তেজনা কাজ করে, শুরু হয় উৎসব। আমি চাই এই আমেজ পুরো সময় জুড়ে থাকুক। একা একা নয়, আমরা সবাই যেন আনন্দটা ভাগ করে নিতে পারি," বলেন তিনি।

প্রতিবছর পূজায় মন্দিরে যাওয়া তাঁর পরিকল্পনার অংশ, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। উৎসবের সময় রাজশাহী যেতেও ভালোবাসেন তিনি, সেখানে কেটেছে তাঁর অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত।

"আমি বিশ্বাস করি, শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ-উৎসব সবার জন্য," বলে ভক্তদের এবং কাছের-দূরের সব মানুষকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানান মিম।

চঞ্চল চৌধুরী

চঞ্চল চৌধুরীর কাছে দুর্গাপূজা গভীরভাবে ব্যক্তিগত এক অনুভূতি। এর শিকড় ছড়িয়ে আছে গ্রামের সেই বাড়িতে, যেখানে তিনি বড় হয়েছেন, আর পারিবারিক সেই রীতিনীতিতে, যা গড়ে দিয়েছে তাঁর শৈশব।

তাঁর কাছে পূজা মানে ভাইবোনদের সঙ্গে আবার একসঙ্গে হওয়া, গ্রামের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো, একত্রে থাকার আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। ছোটবেলা থেকেই এই পরিবেশ তাঁর প্রিয়, আর তিনি চান আগামী প্রজন্মের জন্যও এটি টিকে থাকুক।

"আমি এই সুন্দর পরিবেশ দেখেই বড় হয়েছি। সারা জীবন এটা টিকে থাকুক, এটাই চাই," বলেন তিনি।

তবে উৎসবের এই সময়টা কিছুটা বিষণ্ণতাও নিয়ে আসে। একসময় পরিবারের সঙ্গে পূজা মানে ছিল নির্ভেজাল আনন্দ। বাবার অনুপস্থিতি এখন সেই অনুভূতি বদলে দিয়েছে।

"বাবা বেঁচে থাকতে পূজা আরও বিশেষ লাগত। তিনি চলে যাওয়ার পর উৎসবের সময় তাঁকে আরও বেশি মনে পড়ে। এই আনন্দের দিনগুলোতে তাঁকে বিশেষভাবে মিস করি," বলেন চঞ্চল।

তাঁর বাবা শুধু অভিভাবক ছিলেন না, ছিলেন শিক্ষকও। তাই তাঁর স্মৃতি অভিনেতার জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। আজও চঞ্চল এই ভেবে সান্ত্বনা পান যে, বাবা দূর থেকেও তাঁকে আশীর্বাদ করে চলেছেন।

মনের ভেতর শূন্যতা থাকলেও উৎসবের কাছে তাঁর চাওয়া একই আছে: প্রিয়জনদের মাঝখানে থেকে দিনগুলো কাটানো আর একসঙ্গে থাকার আনন্দে শামিল হওয়া। চঞ্চলের মতো আরও অনেকের কাছেই পূজা শেষ পর্যন্ত পরিবার, আপন হয়ে থাকা আর সেই অটুট বন্ধনের উৎসব, যা এই আয়োজনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে।

#DurgaPuja2026 #SharadiyaDurgaPuja #ShowbizStars #FestiveHarmony

 

Comments

Popular posts from this blog

CCL Digital Set Top Box

Alita: Battle Angel (2019) 375MB 480P WEB-DL Dual Audio [Hindi-English]