প্রিয়ন্তী উর্বী: লালগালিচা থেকে ইউরোপ জয়!
লালগালিচায় স্পষ্টভাষী, ভ্রমণে দুরন্ত! প্রিয়ন্তী উর্বীর জীবনের গল্পে কেন মুগ্ধ সবাই?
লালগালিচায় তারকা ও নির্মাতাদের একটু অপ্রস্তুত করে দেওয়া মজার প্রশ্ন, অভিনয়ে জটিল সংলাপের চ্যালেঞ্জ কিংবা ইউরোপের অচেনা পথে ঘুরে বেড়ানো—সবকিছুতেই নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি জানান দেন প্রিয়ন্তী উর্বী। উপস্থাপক, অভিনেত্রী ও ভ্রমণপিপাসু এই তারকার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি স্পষ্টভাষী, প্রাণবন্ত এবং নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসেন।
প্রচলিত ধারার উপস্থাপনায় খুব একটা বিশ্বাসী নন উর্বী। তার কাছে উপস্থাপনা মানে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রশ্ন-উত্তর নয়, বরং আড্ডায় প্রাণ ফিরিয়ে আনা, হাসি-ঠাট্টায় মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তোলা। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো ‘ব্লেন্ডার্স চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর রেড কার্পেটে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার প্রচলিত স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে প্রতিটি নির্মাতা ও শিল্পীর জন্য আলাদা প্রশ্ন সাজিয়েছিলেন। এমনকি তারকাদের নিয়ে মজার ‘কিল, ডেট অর ম্যারি’ খেলাতেও মেতে ওঠেন।
নিজের উপস্থাপনার পরিবর্তন প্রসঙ্গে উর্বী বলেন, প্রথমবার কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন, সবার কাছে সব প্রশ্ন করতে পারেননি। তবে দ্বিতীয়বার আর কোনো সংকোচ রাখেননি। তার প্রশ্নগুলো সবাই বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছেন এবং উপভোগ করেছেন।
অবশ্য এই সাবলীল উপস্থাপনার পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি। সহ-উপস্থাপক প্রান্তর দস্তিদারের সঙ্গে টানা তিন দিন রাত চারটা পর্যন্ত অনুশীলন করেছেন তিনি। প্রত্যেক অতিথির জন্য আলাদা প্রশ্ন তৈরি করতে ভরেছে একের পর এক নোটবুক।
উর্বীর কাছে রেড কার্পেটই উপস্থাপনার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। কারণ মূল মঞ্চে আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখতে হলেও রেড কার্পেটে থাকে খোলামেলা আড্ডা ও মজার প্রশ্নের সুযোগ। ছোটবেলা থেকেই কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেট তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
অভিনয়েও নিজের পছন্দের বিষয়ে বেশ সচেতন উর্বী। আসন্ন ঈদের কয়েকটি কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে অভিনেতা মুশফিক ফারহানের সঙ্গে নতুন জুটিতেও দেখা যাবে তাকে। তবে বড় পর্দায় কাজ করার বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করতে চান না। তার ভাষায়, শক্তিশালী চরিত্র না পেলে আপাতত সিনেমায় পা রাখতে চান না।
পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নিজস্ব পছন্দ। মেজবাউর রহমান সুমন, রুবাইয়াত আলম রবি ও জাহিদ প্রীতমের কাজের প্রতি তার বিশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে। বিশেষ করে জাহিদ প্রীতমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তার কাছে বেশ আনন্দের। ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ কাজটির পর তাদের সৃজনশীল বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হয়েছে। প্রীতমের সংলাপে গভীরতা ও জটিলতা থাকে, যা অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে বলে জানান উর্বী।
ক্যামেরা ও স্টুডিওর বাইরে উর্বীর সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ভ্রমণ। সম্প্রতি ইউরোপের সাতটি দেশ—নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স ঘুরে এসেছেন তিনি। তবে ইউরোপ সম্পর্কে তার আগের ধারণার সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার বেশ পার্থক্য ছিল। রাতভর পার্টি আর উৎসবের বদলে সেখানে দেখেছেন নিয়মশৃঙ্খল, পরিশ্রমী মানুষের জীবনযাপন। সকাল ছয়টা থেকেই দিনের কাজ শুরু করেন অনেকে, আবার অনেকেই হেঁটে চলাচল করেন।
এই সফরে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে সুইজারল্যান্ড। উর্বীর কথায়, চোখ বন্ধ করে ইউরোপের কথা ভাবলে সবার আগে তার মনে পড়ে সুইজারল্যান্ডের কথা। জায়গাটি তার কাছে যেন স্বর্গের মতো। নেদারল্যান্ডসের একটি শান্ত, গাড়িমুক্ত গ্রামও বিশেষভাবে মনে ধরেছে তার। সেখানে সড়কের পরিবর্তে নৌকায় চলাচল করতে হয়।
তবে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাখঢাক করেননি উর্বী। ফ্রান্সকে তার কাছে কিছুটা অতিরিক্ত প্রশংসিত মনে হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং চারপাশের বিশৃঙ্খলা তার ভালো লাগেনি। ব্যাগ শক্ত করে ধরে ভয় নিয়ে ঘুরতে হলে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন কী—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ ভ্রমণের তালিকায় রয়েছে পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও ইতালি। অর্থাৎ ভ্রমণের নেশা এখনো মেটেনি তার।
লালগালিচার ঝলমলে আলো থেকে ইউরোপের অচেনা পথ—সব জায়গাতেই প্রিয়ন্তী উর্বী নিজের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব নিয়ে হাজির হন। অভিনয়, উপস্থাপনা কিংবা ভ্রমণ—কোনো ক্ষেত্রেই অন্যের ছকে নিজেকে আটকে রাখতে চান না তিনি। বরং নিজের পছন্দ, সাহস আর কৌতূহল নিয়েই এগিয়ে যেতে চান এই বহুমুখী তারকা।
#PriyonteeUrbee #BangladeshiCelebrities #EntertainmentNews #TravelDiaries
Comments
Post a Comment